কবিতা - বাঙালি জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ ১৯৬০-১৯৮০

ওরাল হিস্ট্রি প্রজেক্টটি হচ্ছে হ্যারিটেজ লটারী ফান্ড কতৃক সংহতি'র একটি ব্যতিক্রমি অনবদ্য প্রজেক্ট। যার মুল উদ্দেশ্য হলো ৬০ থেকে ৮০ দশক সময়টাতে পূর্ব লন্ডনের বাঙালিদের বাংলা কাব্যচর্চায় তার সমৃদ্ধশালী ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা। বর্তমান সময়ে বাংলাভাষা ও সাহিত্য বিশ্বের একটি অন্যতম সমৃদ্ধ ভাষা ও সাহিত্য হিসেবে বিবেচিত, তাই বাংলাভাষার কাব্যশক্তিকে যোগান দিতে সমস্ত বিশ্বের বাংলাভাষি কবিরা তাদের অমুল্য অবদান রেখে চলেছেন গত কয়েক দশক থেকে। ইতিহাস সাক্ষ্যি, বাংলা ভাষায় কাব্যচর্চার ইতিহাস এই বিলেতে শত বছরও পেরিয়ে এসেছে। মাইকেল, রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে অনেক বরণ্যে কবিরা এখানে অনেক শক্তিশালী কাব্যের জন্ম দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রজেক্টের মুল কর্মসূচীর মধ্যে ছিলো প্রাথমিকভাবে ইষ্টএ্যান্ডের বাঙালি কমিউনিটিতে কবিতা ও কবিতা বিষয়ক ঐতিহ্যকে নিয়ে কাজ করা।
১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান থেকে নয় মাস যুদ্ধের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম।১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের পর পরই  ১৯৬৬ সালে ছয় দফা দাবী, ১৯৬৯ এর গণঅভুত্থান, ১৯৭১ সারে মুক্তিযুদ্ধ এবং তার পরবর্তী একযুগের ইতিহাসে বাংলাভাষার কবিদের উত্থানের মাধ্যমে কবিতায় উক্ত তিন দশককে কিভাবে চিহ্নত করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিনিধিত্বশীল উক্ত সময়কাল এবং বিলেতের পূর্ব লন্ডনের কবি ও কবিতাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তার কারন উক্ত তিনটি দশকে বাংলা সাহিত্যের অবস্থান এবং কবিও কবিতার প্রতিনিধিত্ব ছিলো একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইল ফলক হিসাবে বিবেচিত। বিশেষ করে সেই উত্তাল অবস্থান, রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ, সাইক্লোন, আর আকাল। এসবের ভেতর দিয়ে একটি নতুন দেশের জন্ম, যার প্রভাব বিলেতের কমিউনিটিতে কবিতায় কিভাবে উপলব্ধি ও উপস্থাপিত হয়েছে তারই একটি প্রামাণ্য দলিল হিসাবে এই প্রজেক্টের মুল উদ্দেশ্যে ধারণ করা হয়েছে
প্রজেক্টের আরেকটি লক্ষ্য ছিলো পূর্ব লন্ডনের অবাঙালি কবিদের স্মৃতিকথা সংগ্রহ করা এবং তাদের কবিতাকে সংগ্রহ করা। একই ভাবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ছাড়াও সেই তিন দশক সময়কালে এখানকার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা পরিবর্তন ও অচলাবস্থা ছিলো লক্ষ্যনীয়। বিশেষ করে যুদ্ধ পরবর্তী অভিবাসনবর্ণবাদ বিদ্বেষ,  প্রভাব পড়েছিল স্থানীয় শিল্পকারখানায়, দ্রত হ্রাস পাচ্ছিলো উৎপাদন ক্ষমতা, বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো জাহাজের ডক এবং ক্রম বর্ধমান বেকারত্ব ইত্যাদি। অবাঙালি কবিদের লেখা কবিতা অন্তর্ভুক্ত করার কারণ হলো পূর্ব লন্ডনে বসবাসরত তখনকার নানা কমিউনিটির ভাষাগত সম্প্রীতির বিষয়টি কিভাবে প্রভাবিত করেছিলো সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।  
সর্বমোট ৪০ জন কবির স্মৃতিকথা ওরাল হিস্টোরির মাধ্যমে ধারন করা হয়েছে, এতে ব্রিটেনের তৎকালীন অবস্থান, কমিউনিটিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী প্রভাব, বাংলাদেশের যুদ্ধ, ফ্যাসিবাদ, বর্ণবাদ আর নানা সমস্যাকে কেন্দ্র করে তাদের আত্মস্মৃতি গ্রন্থিত করা ছাড়াও ১০০টি বাংলা ও ইংরেজি কবিতা এই গ্রন্থে সংকলিত করা হয়েছে। বিশেষ করে বাঙালি ও অবাঙালি কবিদের কলমে কেমন করে জাগ্রত হয়েছিলো সোচ্চার শব্দাবলী, কেমন করে সেই সকল সংকট মোকাবিলায় তাদের কবিতা কতটা অগ্রণী ভুমিক পালন করেছে তারই সাহসী পদক্ষেপ ও জয়যাত্রার ইতিহাস উন্মোচন করেছে উক্ত প্রজেক্ট।
অবশ্য পাঠকদের জ্ঞাতার্থে জানাতে হয় যে উক্ত প্রজেক্টে যে সকল ব্যক্তিত্ব ও কবিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে তাদের কেউই পেশাদার কবি বা সাহিত্যিক নন, তবে তাদের কলম যে অবস্থান নিয়েছিলো এবং যে বিধ্বস্ত সময়কে তারা অতি সাধারন শব্দ, ছন্দে ধারন করেছেন তার মাপকাটিতে তাঁরা অকুতোভয় কলম সৈনিক, ইতিহাসে আজ তারা প্রজ্ঞার পরিচয় বহন করে।
আমরা পুরো প্রজেক্টের কাজগুলোকে টাওয়ার হ্যামলেটস্ লোকাল হিস্ট্রি লাইব্রেরীতে সংরক্ষন করা হবে, যাতে পরবর্তীতে গবেষনার কাজে, ইতিহাসিকবিদ বা কমিউনিটির সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। হিস্ট্রি